1. admin@dainikbanglarbani24.com : admin :
  2. daliybanglarbani@gmail.com : razmulhuda :
শিরোনাম :
মুরাদ হাসানকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  dainikbanglarbani24.com মায়ানমারের গনপ্রজাতন্ত্রী নেত্রী সু চির ৪ বছরের কারাদণ্ড dainikbanglarbani24.com লঘুচাপে পরিণত ‘জাওয়াদ’, বৃষ্টি-যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী dainikbanglarbani24.com রাজারবাগ পীরের বিরুদ্ধে উগ্রবাদ ছড়ানোর আশঙ্কা পুলিশের dainikbanglarbani24.com আবারো নৌকা প্রতিক হাতে নিয়ে উৎসবে মুখরিত আশুলিয়া ইউনিয়ন dainikbanglarbani24.com ফতুল্লায় গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে আগুন, দগ্ধ ৪ dainikbanglarbani24.com পোশাকখাতের উন্নয়নের জন্য সম্মাননা পেল বিজিএমইএ dainikbanglarbani24.com শিক্ষকের মৃত‌্যু: কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার dainikbanglarbani24.com আশুলিয়ার ৫নং ইউনিয়নের মেম্বার হোসেন আলী মাস্টারের সমর্থনে নির্বাচনী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত dainikbanglarbani24.com নৌকার মনোনয়ন পেয়ে যা বললেন আইভী রহমান dainikbanglarbani24.com
নোটিশ :
মুরাদ হাসানকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  dainikbanglarbani24.com মায়ানমারের গনপ্রজাতন্ত্রী নেত্রী সু চির ৪ বছরের কারাদণ্ড dainikbanglarbani24.com লঘুচাপে পরিণত ‘জাওয়াদ’, বৃষ্টি-যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী dainikbanglarbani24.com রাজারবাগ পীরের বিরুদ্ধে উগ্রবাদ ছড়ানোর আশঙ্কা পুলিশের dainikbanglarbani24.com আবারো নৌকা প্রতিক হাতে নিয়ে উৎসবে মুখরিত আশুলিয়া ইউনিয়ন dainikbanglarbani24.com ফতুল্লায় গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে আগুন, দগ্ধ ৪ dainikbanglarbani24.com পোশাকখাতের উন্নয়নের জন্য সম্মাননা পেল বিজিএমইএ dainikbanglarbani24.com শিক্ষকের মৃত‌্যু: কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার dainikbanglarbani24.com আশুলিয়ার ৫নং ইউনিয়নের মেম্বার হোসেন আলী মাস্টারের সমর্থনে নির্বাচনী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত dainikbanglarbani24.com নৌকার মনোনয়ন পেয়ে যা বললেন আইভী রহমান dainikbanglarbani24.com

ইসলামে মানবতা ও সম্প্রীতি রক্ষার তাগিদ, ইসলামে মানবতা সংরক্ষণঃ dainikbanglarbani24.com

  • Update Time : বুধবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২১
  • ১৪ Time View

ইসলামে মানবতা ও সম্প্রীতি রক্ষার তাগিদ, ইসলামে মানবতা সংরক্ষণঃ

রাজমুল হুদা রাজ, ঢাকা : ইসলাম শান্তি সহিষ্ণুতা মানবিকতা মানবপ্রীতি এবং সম্প্রীতির ধর্ম। এ ধর্ম পৃথিবীর একমাত্র ধর্ম যেখানে বিভেদ সংঘাতকে ভূলে মানবজাতিকে ঐক্যবদ্ধ জাতি হবার ব্যাপারে অনুপ্রাণিত করে।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহপাক বলেন, ‘হে মানবজাতি! আমি নর ও নারী থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেছি। আর আমি বিভিন্ন গোষ্ঠী ও গোত্রে তোমাদের বিভক্ত করেছি যেন তোমরা একে অপরকে চিনতে পার’। (সূরা আল হুজুরাত: আয়াত : ১৩)। ইসলাম ধর্ম কেবল তার অনুসারীদের অধিকার সংরক্ষণ করেনি বরং যারা অমুসলিম তাদের অধিকারও সংরক্ষণ করেছে। আল্লাহর সৃষ্ট মাখলুক হিসেবে প্রাপ্য সকল অধিকার ইসলাম প্রত্যেক ধর্মালম্বীকে দিয়েছে। ইসলাম উদারতার ধর্ম মানবিকতার ধর্ম সার্বজনীন কল্যাণের ধর্ম।

ইসলামে মানবতা সংরক্ষণঃ মানবধিকার সম্পর্কে ইসলামের নবী আল্লাহর প্রিয় হাবিব রাসূলে আকরাম (সা.) বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে উদাত্ত কণ্ঠে বলেছেন, ‘হে মানবমন্ডলী! তোমাদের আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় এবং তোমাদের আদি পিতাও এক। একজন আরব একজন অনারব থেকে কোনো মতেই শ্রেষ্ঠ নয়। তেমনি একজন আরবের ওপরে একজন অনারবেরও কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। একজন সাদা চামড়ার মানুষ একজন কালো চামড়ার মানুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয়, কালোও সাদার চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয়। শ্রেষ্ঠত্বের মূল্যায়ন করতে বিচার্য বিষয় হবে, কে তাকওয়া তথা আল্লাহ ও বান্দার হক কতদূর আদায় করল। এর দ্বারা আল্লাহর দৃষ্টিতে তোমাদের মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী সেই ব্যক্তি, যিনি সর্বাপেক্ষা বেশি ধর্মপরায়ণ’ ( সুনানে বায়হাকি)।

ইসলামে মুসলমানের পারস্পরিক মানবিক হক যেমনি সংরক্ষিত ঠিক তেমনি অমুসলিম নাগরিকের হকও সংরক্ষিত। তাইতো স্বয়ং বিশ্বনবী (সা.) এর জীবনে আমরা তা দেখতে পাই। এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে, নবী করিম (সা.) অমুসলিম রোগীদের দেখতে যেতেন এবং তাদের ঈমানের দাওয়াত দিতেন। তাদের সেবা করতেন। আনাস (রা.) বলেন, এক ইহুদি গোলাম নবী করিম (সা.)-এর খেদমত করত। যখন সে অসুস্থ হলো, তখন মহানবী (সা.) তাকে দেখতে গেলেন, তার মাথার দিকে বসলেন আর তাকে বলেন, তুমি ইসলাম গ্রহণ করো! তখন সে তার পিতার দিকে দেখল। পিতা বলেন, তুমি আবুল কাসেমের অনুসরণ করো, ফলে সে ইসলাম গ্রহণ করল। তখন নবী (সা.) এই বলে বের হলেন, আল্লাহর শোকরিয়া, যিনি তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিলেন। ’ (সহীহ বুখারি: হাদিস : ১২৫৬)।

অমুসলিম নাগরিকদের মধ্যে জীবিতের যেমন হক রয়েছে, তেমনি তাদের মৃতেরও হক ইসলাম সংরক্ষণ করেছে। যদি কোন অমুসলিম মারা যায় সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে তাদের দাফন বা সৎকারে সহযোগিতা করতে হবে। কেননা তারা শ্রেষ্ঠ মাখলুক তথা মানবজাতির অন্তর্ভুক্ত। আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে বর্ণিত, সাহল ইবনে হুনাইফ ও কায়েস ইবনে সাদ কাদেসিয়াতে বসা ছিলেন। তখন তাঁদের পাশ দিয়ে একটি জানাজা নিয়ে কিছু লোক অতিক্রম করল। তখন তাঁরা দুজন দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন তাঁদের বলা হলো, ইনি তো কাফির। তখন তাঁরা বলেন, মহানবী (সা.)-এর পাশ দিয়ে একসময় এক জানাজা নেওয়া হয়েছিল। তখন তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন। তাঁকে বলা হলো, এটা তো এক ইহুদির জানাজা। তখন তিনি বলেন, এটা কি প্রাণী নয় (মানব নয়)?’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১২১৩)

ইসলামে সম্প্রীতি রক্ষার তাগিদঃ ইসলাম মানুষের মাঝে সম্প্রীতি রক্ষার তাগিদ দিয়েছে। যারা সম্প্রীতি নষ্ট করে তাদের প্রতি হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘ফিতনা-ফাসাদ বা দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও কঠিন অপরাধ।’ (সুরা বাকারা: আয়াত : ১৯১)। তিনি অন্য আয়াতে বলেন, ‘পৃথিবীতে শান্তি স্থাপনের পর তাতে ফাসাদ বা সন্ত্রাস সৃষ্টি করো না।’ (সুরা আরাফ: আয়াত : ৫৬)।

ইসলাম সব ধর্মের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। ধর্ম পালনে কেউ বাধাগ্রস্ত হবে না। তাই ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মগ্রন্থ, উপাসনালয় ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নিয়ে কোনোরূপ ব্যঙ্গ-বিদ্রæপ করা কোনো মুসলমানের জন্য সমর্থনযোগ্য নয়। আল্লাাহতায়ালা বলেন, ‘আাল্লাহকে ছেড়ে যাদের তারা (মূর্তিপূজক) ডাকে, তাদের তোমরা গালি দিও না। তাহলে তারা সীমালংঘন করে অজ্ঞানতা বশত আল্লাহকেও গালি দেবে।’ (সূরা আনয়াম : আয়াত: ১০৮)।

রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘সাবধান! যে ব্যক্তি চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম নাগরিকের ওপর অত্যাচার করে অথবা তার অধিকার থেকে কম দেয় কিংবা সামর্থ্যবহির্ভূতভাবে কোনো কিছু চাপিয়ে দেয় বা জোর করে তার কোনো সম্পদ নিয়ে যায়, তবে কেয়ামতের দিন আমি সে ব্যক্তির প্রতিবাদকারী হবো ( সুনানে আবু দাউদ)।’ আরো এক হাদিসে এসেছে, ‘যারা মানুষকে সা¤প্রদায়িকতার দিকে ডাকে, যারা সা¤প্রদায়িকতার জন্য যুদ্ধ করে এবং সা¤প্রদায়িকতার জন্য জীবন উৎসর্গ করে তারা আমাদের সমাজভুক্ত নয়।’ (আবু দাউদ: হাদিস : ৫১২৩)। তিনি আরো বলেন, যে ব্যক্তি কোনো অমুসলিম নাগরিককে হত্যা করল, সে জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না, অথচ তার সুগন্ধি ৪০ বছরের রাস্তার দূরত্ব থেকেও পাওয়া যায়।’ (সহীহ বুখারি: হাদিস : ৩১৬৬)।

ইসলাম সকল মানুষের প্রতি সহনশীল আচরণ ও সম্প্রীতি রক্ষার তাগিদ দিয়েছে। এ বিষয়ে আমরা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মহানবী (সা.) এর সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতির বিরল মাধুর্য আচরণ ও প্রোজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেখতে পাই। এক অমুসলিম বৃদ্ধার ঘটনা ইতিহাসে আমরা জেনেছি। বৃদ্ধা প্রতিদিন মহানবী (স.)-এর চলার পথে কাঁটা দিত। একদিন রাসুল (সা.) দেখলেন, পথে কাঁটা নেই, তখন তিনি ভাবলেন হয়তো ওই বৃদ্ধা অসুস্থ হয়েছে বা কোনো বিপদে আছে, তার খোঁজ নেওয়া দরকার। এরপর মহানবী (সা.) বৃদ্ধার বাড়িতে গিয়ে দেখেন, ঠিকই অসুস্থ। তিনি বৃদ্ধাকে বললেন, আমি আপনাকে দেখতে এসেছি। এতে বৃদ্ধা অভিভূত হয়ে গেল যে, আমি যাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য পথে কাঁটা পুঁথে রাখতাম, সেই আজ আমার বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছে। আপনিই তো সত্যিকার অর্থে শান্তি ও মানবতার অগ্রদূত। (শাশ্বত নবী (সা.), পৃষ্ঠা ৬০; ইফাবা, জুন-২০০৪)।

এ ছাড়াও আরেকটি ঘটনা যা আমাদের সম্প্রীতির আদর্শ কেমন হওয়া উচিত তা শিক্ষা দেয়। তা হলো, মহানবী (সা.) এর ঘরে এক ইহুদির অতিথি হওয়া ও এরপর মহানবী (সা.)-এর অতিমানবীয় আপ্যায়নের ঘটনা খুবই বিখ্যাত। রাসুল (সা.) এর সুমহান উদারতা ও আদর্শে মুগ্ধ হয়ে সে ইসলামও গ্রহণ করে।

মহানবী (সা.) মক্কা থেকে মদিনা হিজরত করার পর যে মদিনা-সনদ প্রণয়ন করেন তা বিশ্ব ইতিহাসের সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান এবং শান্তি-স¤প্রীতির ঐতিহাসিক দলিল। এই সনদে সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি রক্ষাসহ সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তা প্রদান সম্পর্কিত উল্লেখযোগ্য ধারা সন্নিবেশিত রয়েছে। যেমন সনদে স্বাক্ষরকারী সব গোত্র-স¤প্রদায় মদিনা রাষ্ট্রে সমান অধিকার ভোগ করবে, সব ধর্ম স¤প্রদায়ের স্ব-স্ব ধর্ম-কর্ম পালনের স্বাধীনতা ও অধিকার যথারীতি বহাল থাকবে; কেউ কারও ওপর কোনোরূপ আক্রমণ করবে না, সন্ধিভুক্ত কোনো স¤প্রদায় বহিঃশক্রকর্তৃক আক্রান্ত হলে উক্ত আক্রান্ত স¤প্রদায়কে সম্মিলিতভাবে সহযোগিতা করতে হবে এবং শক্রদের প্রতিহত করতে হবে, কোনো নাগরিক কোনো অপরাধ করলে তা তার ব্যক্তিগত অপরাধ বলে গণ্য করা হবে। (সিরাতে ইবনে হিশাম : ৪/৬১, ইফাবা, ২য় সংস্করণ: ২০০৮)।

মানবতা রক্ষা ও সম্প্রীতির শ্রেষ্ঠ নজির বা দৃষ্টান্ত ইসলামের ইতিহাসে দেখা যায়, মক্কা বিজয়ের দিন মহানবী (সা.) বিজয়ী বেশে মক্কায় প্রবেশ করলে কুরাইশদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু মহানবী (সা.) বিজিত শক্রদের প্রতি কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার তো দূরের কথা কিঞ্চিৎ পরিমাণ ও প্রতিশোধস্পৃহা প্রকাশ করেননি, বরং শত্রুদের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করেছেন। তিনি কুরাইশদের বলেছেন, ‘হে কুরাইশরা! আমি তোমাদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করব বলে তোমরা মনে করো?’ তারা বলল, আপনি আমাদের প্রতি ভালো ব্যবহার করবেন বলে আমাদের ধারণা। আপনি দয়ালু ভাই। দয়ালু ভাইয়ের পুত্র। অতঃপর রাসুল (সা.) বললেন, ‘আমি তোমাদের সঙ্গে সেই কথাই বলছি, যে কথা হজরত ইউসুফ (আ.) তার ভাইদের উদ্দেশে বলেছিলেন, আজ তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। যাও তোমরা সবাই মুক্ত।’ (আর-রাখিকুল মাখতুম, পৃষ্ঠা : ৪৩৯, আল-কুরআন একাডেমি লন্ডন; ২০০৮)।

সম্প্রীতি, সহনশীল আচরণ ও মানবিকতাঃ এ বিষয়ে এ ঘটনা রয়েছে যা দ্বারা বুঝা যায় ইসলাম কতটা উদার ও সম্প্রীতির মানবিক ধর্ম। ঘটনায় বর্ণিত আছে, মুসলিম সেনাপতি হযরত আমর ইবনে আ’স (রা.)-এর সময়ের কথা। একদিন সকালবেলা আলেকজান্দ্রিয়ার খ্রিস্টান পল­ীতে হইচই পড়ে গেল। দেখা গেল সবাই বাজারে জটলা হয়ে আছে। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় চলছে। সেখান থেকে খ্রিস্টানদের স্থানীয় আর্চ ‘বিশপ’ বাজারের ঘটনা অবগত করার জন্য আমর ইবনে আ’স (রা.)-এর বাসভবনে গেলেন। তার সাথে আরও অনেকেই গেলেন। সেখানে গিয়ে বিশপ জানালেন, গত রাতে কেউ একজন বাজারের যিশু খ্রিস্টের মুর্তিও নাক ভেঙে দিয়েছে। এ মূর্তিটা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ধরে নিয়েছি যে এটা মুসলমানদেরই কাজ।

আমর ইবেন আ’স এ কথা শুনে অত্যন্ত দুঃখিত হলেন। তিনি বললেন, “আমি খুবই লজ্জিত ও ব্যথিত। সত্যি কথা বলতে, ইসলামে মূর্তিপূজা জায়েজ না ঠিক, কিন্তু অন্য ধর্মের উপাস্যকে গালি দেয়াও যে ইসলাম হারাম করেছে। অনুগ্রহ করে আপনি মূর্তিটা পুননির্মাণ করে নিন। এতে যত খরচ হয় আমি তা দিয়ে দেব।” বিশপ বললেন, “এ মূর্তি রিপেয়ার করা যাবে না।” তখন আমর ইবনে আ’স বললেন, “তবে নতুন করে বানান। আমি খরচ দেব।” “না, সেটাও হবে না। আপনি জানেন, যীশু ঈশ্বরপুত্র। তার মূর্তিও এমন অবমাননা সহ্য করা যায় না। একটাই ক্ষতিপূরণ, আমরা আপনাদের মুহাম্মাদ (সা.)- এর মূর্তি বানিয়ে সেটার নাক ভাঙ্গব।”

রাগে জ্বলে গেল আ’স (রা.)-এর গা। তিনি কিছুক্ষণ নীরব থেকে বিশপকে বললেন, “আপনি যা বললেন সেটা সম্ভব না। আমাদের সম্পদ, পরিবারের চেয়েও মুহাম্মাদ (সা.)কে বেশি ভালবাসি। আমার অনুরোধ, এ প্রস্তাব ছাড়া অন্য যেকোনো প্রস্তব করুন আমি রাজি আছি। আমাদের যেকোনো একজনের নাক কেটে আমি আপনাদের দিতে প্রস্তত, যার নাক আপনারা চান।”

খ্রিস্টান নেতারা সবাই এ প্রস্তাবে সম্মত হলো। পরদিন খ্রিস্টান ও মুসলমান বিরাট এক ময়দানে জমায়েত হলো। মিসরের শাসক সেনাপতি আমর (রা.) সবার সামনে হাজির হয়ে বিশপকে বললেন, “এ দেশ শাসনের দায়িত্ব আমার। যে অপমান আজ আপনাদের, তাতে আমার শাসনের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। তাই এই তরবারি গ্রহণ করুন এবং আপনিই আমার নাক কেটে দিন।” এ কথা বলেই বিশপকে একখানি ধারালো তরবারি হাতে দিলেন, বিশপ সেটা পরীক্ষা করলেন। জনতা স্তব্দ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, খ্রিস্টানরা স্তম্ভিত। চারদিকে থমথমে ভাব। সে নীরবতায় নিঃশ্বাসের শব্দ করতেও যেন ভয় হয়।

হঠাৎ সেই নীরবতা ভঙ্গ করে একজন মুসলিম সৈন্য এগিয়ে এলো। চিৎকার করে বলল, “আমিই দোষী, সেনাপতির কোনো অপরাধ নেই। আমিই মূর্তির নাক ভেঙেছি। এই দেখুন আমার হাতে এখনো সেই নাকটি রয়েছে। সবার দৃষ্টি মূর্তির ভাঙ্গা নাকের দিকে। নাক হাতে সৈন্যটি বললেন, মূর্তি ভাঙার কোনো ইচ্ছা আমার ছিল না। মূর্তির মাথায় বসা একটি পাখি ছিল। আমি ভাবলাম যদি এই পাখিটা মলত্যাগ করে মূর্তিটাকে অসুন্দর করে দেবে। তাই পাখিটার দিকে তীর নিক্ষেপ করতে গিয়ে এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।”

সৈন্যটি এগিয়ে এসে বিশপের তরবারির নিচে নাক পেতে দিল। নির্বাক সবাই। বিশপের অন্তরাত্মা রোমাঞ্চিত হয়ে উঠল। তরবারি ছুড়ে বিশপ বললেন, “ধন্য সেনাপতি, ধন্য হে বীর সৈনিক, আর ধন্য আপনাদের মুহাম্মদ (সা.), যার মহান আদর্শে আপনাদের মতো মহৎ উদার নির্ভীক ও শক্তিমান ব্যক্তি গড়ে উঠেছে।

এ ঘটনা এ কথা প্রমাণ করে অমুসলিমের ধর্মের মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে মুসলিম জাতি নিজেদের জানমাল সহ সবকিছু কুরবানী করার নজরানা কেবল ইসলামের প্রকৃত অনুসারীদেরই রয়েছে। কাজেই সকলকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার পাশাপাশি মানবতাও রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।

পরিশেষে মহান আল্লাহপাক আমাদের সকলকে মানবতা রক্ষা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করে সুখ সমৃদ্ধ শান্তিময় জনপদ তথা শান্তির বাংলাদেশ গড়ে তোলার তাওফিক দান করুন।
সংগ্রহকৃতঃ
লেখকঃ মোঃ আবদুল গনী শিব্বীর, মুহাদ্দিস, নোয়াখালী কারামাতিয়া কামিল মাদরাসা, সোনাপুর, সদর, নোয়াখালী।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 Dainik Banglar bani 24
Customized BY NewsTheme
Design & Develop BY Our BD It